ওজোন একটি বিশেষ বায়বীয় পদার্থ যা পৃথিবীর ভূস্তরে এবং উচ্চতর বায়ুমন্ডলে বিরাজমান। ওজোন দুটি বিভিন্ন প্রকারের; ভূস্তর সন্নিকটস্থ ওজোন (বা বাজে ওজোন) এবং আন্তর আকাশস্থ ওজোন (বা ভালো ওজোন স্তর)।
ভূস্তর সন্নিকটবর্তী ওজোন ভূপৃষ্ঠের নিকট ট্রপোস্ফেয়ারে থাকে। এটা শহুরে ধোঁয়াসার প্রধান উপাদান এবং এর উৎপত্তি শিল্পজনিত নির্গমন বৈদ্যুতিক ব্যবহার, মোটর গাড়ির নির্গমন, গ্যাসোলিন বাষ্প ও রসায়নিক দ্রাবক হতে। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে নাইট্রোজেন অক্সাইড আর উদ্বায়ী জৈব যৌগগুলির বিক্রিয়ায় ভূস্তর নিকটবর্তী ওজোন তৈরী হয়। ভূস্তর নিকটবর্তী ওজোন মানুষের পক্ষে ক্ষতিকারক দূষক। নিঃশ্বাসের সঙ্গে ওজোন বিবিধ স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে যেমন বুকে ব্যাথা, কাশি, গলায় জ্বালা ও প্রদাহ যা ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি বা এম্ফিসিমা রোগকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। ভূস্তর নিকটবর্তী ওজোনের আরেকটি খারাপ প্রভাব পরিবেশতন্ত্রর ওপর কারণ এর ফলে ফসল, গাছ বা অন্য উদ্ভিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতি বছর আমেরিকায় এর জন্য আনুমানিক ৫০ কোটি ডলারের ফসল কম উৎপন্ন হয়।
১৯৬৩ সালে পরিচ্ছ্ন্ন বায়ু আইন ওজোনের স্বাস্থ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষামূলক মাত্রা নির্দিষ্ট করেছে। চালু হওয়ার পর বহুবার সংশোধিত এই আইন নির্গমনের মান এবং মাত্রার চলমান ঘোষনাগুলিকে নির্দেশিত করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য স্থায়ী এবং অস্থায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে দূষকের জাতীয় মান নির্ধারণ করা এবং জাতীয় পরিকল্পনা রুপায়ানের মধ্যে দিয়ে দুষনকারী নির্গমনের ব্যাপারে আইন সরবরাহ করা। উপরন্তু, এই সংশোধনীগুলি নির্দিষ্ট স্থানগুলিতে, যেখানে বাতাসের মান জাতীয় মান অপেক্ষা ভাল সেখানে আরো উল্লেখযোগ্য অবনতি রোধে, আর যেখানে বাতাসের মান জাতীয় মান অপেক্ষা খারাপ সেখানে উন্নত গুনমানের বায়ু সরবরাহের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হয়েছে (এই এলাকাগুলিকে অনার্জিত এলাকা বলে)। পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং অন্যান্য সংস্থাগুলিও স্বাস্থ্যাভিত্তিক গুনমান রক্ষার ব্যাপারে বিভিন্ন প্রকার বহুমুখী প্রকল্পে অংশ গ্রহন করেছে।

Figure 1: Location of the 2 ozone layers (EPA website)
আন্তর আকাশস্থ ওজোন আন্তর আকাশে (ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬-৩০ মাইল উচ্চতায় উপস্থিত) প্রাকৃতিক ভাবে উৎপন্ন হয় এবং এটি পার্থিব জীবনের রক্ষাকারী একটি প্রাকৃতিক ঢালের সঙ্গে তুলনীয়। সূর্য্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির ৯৭ -৯৯ শতাংশ এই ওজোন স্তর শোষণ করে আর এভাবে পার্থিব জীবন রক্ষা হয়। কিন্তু এই "ভাল” ওজোন ক্রমশ বিলুপ্ত হচ্ছে যার কারণ কিছু রসায়নিক, যেগুলিকে ওজোন রিক্তিকারী রসায়নিক বলা হয়, যেমন ক্লোরোফ্লুরোকার্বন, হাইড্রোক্লোরোফ্লুরোকার্বন, হ্যালন, মিথাইল ব্রোমাইড, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, ও মিথাইল ক্লোরোফর্ম। মানুষের বানানো এই সব রসায়নিক পদার্থ শেষ পর্যন্ত চামড়ার ক্যানসার, ছানি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য অনেক ক্ষেত্রে দায়ী।
১৯৭৪ সালে মেক্সিকোর গবেষক মারিও যে মোলিনা ও আমেরিকান গবেষক এফ্ এস্ রোল্যান্ড্ একটি গবেষনা পত্র প্রকাশ করেন যাতে দেখা যায় উচ্চ কম্পাঙ্কের অতি বেগুনি রশ্মির উপস্থিতিতে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ওজনকে ভাঙ্গতে সক্ষম।
১৯৮৫ সালে বায়ুমন্ডলের বিজ্ঞানীগণ উচ্চ অন্তরীক্ষে (আন্তর আকাশে) এন্টার্কটিকার ওপারে একটি "গর্ত "আবিষ্কার করেন যা ওজোনস্তরের ওপর ওজোন রিক্তিকারক পদার্থগুলির নিদারুন পরিনতি ব্যক্ত করে।
আরো গবেষনার ফলে এটা অনুমান করা যায় যে আগামী ৬০ বছরে ক্লোরোফ্লুরোকার্বনগুলি ওজোন স্তরে আরো ৭ শতাংশ রিক্তিকরণ ঘটাবে।এই ঘটনাগুলির অব্যবহিত পরেই আমেরিকা এবং আরো ১৮০টি দেশ ওজোনস্তর রিক্তিকারক পদার্থ্গুলির ওপর মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষর করে যা ওজোনস্তর রিক্তিকারক পদার্থগুলির উৎপাদন ক্রমশ বন্ধ করার ব্যাপারে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।১৯৮৭ সালের ১৬ ই জানুয়ারী এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য খোলা হয় এবং ১লা জানুয়ারী ১৯৮৯ থেকে কার্যকরী হয়, এই চুক্তিটিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হিসাবে স্বাগত জানানো হয়।

Figure2: Total reported global production of ozone depleting substances (ods). (2007). In UNEP/GRID-Arendal Maps and Graphics Library. Retrieved 17:03, March 26, 2008 from http://maps.grida.no/go/graphic/total-reported-global-production-of-ozone-depleting-substances
মন্ট্রিল চুক্তি গৃহিত এবং শক্তিশালী হওয়ার পর ক্লোরোফ্লুরোকার্বনের নির্গমন কম হয়েছে ও বায়ুমন্ডলে গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ গুলির ঘনত্ব ক্রমশঃ কম হচ্ছে। এই বস্তুগুলি ক্রমশ বায়ুমণ্ডল থেকে সরানো হচ্ছে। ২০৫০ সাল কিম্বা তার ও পরে এন্টার্কটিকায় লুপ্ত ওজোনস্তরের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার ঘটবে। যদিও বহু দেশ কঠোরভাবে মন্ট্রিল চুক্তি মেনে চলেছে যার ফলে ওজোন স্তর রিক্তিকারক পদার্থ গুলি লক্ষনীয় ভাবে কম হয়েছে (রেখা চিত্র দ্রষ্টব্য), আরো বহু বছর গুদামজাত, বেআইনি, এবং পুনর্নাবিকরণজাত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন, ও রেফ্রিজারেটর আর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন আমাদের চারপাশে থাকবে।
যদিও উন্নত দেশগুলি হ্যালোকার্বনের ব্যবহার ক্রমশঃ কমিয়ে দেবার সির্ধান্ত নিয়েছে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রচর্য এর বাইরে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিকে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করার জন্য আরও বেশী সময় দেওয়া হয়েছে।
Translated into Bengali by Saheli Nath
Additional Resources:
Ozone depletion and climate change. (2007). In UNEP/GRID-Arendal Maps and Graphics Library. Retrieved 15:43, March 26, 2008 from http://maps.grida.no/go/graphic/ozone-depletion-and-climate-change (PDF file)
|
Join the Climate Institute e-news mailing list: |
© 2007 - 2010 Climate Institute All Rights Reserved |
900 17th St. NW, Suite 700, Washington, DC 20006 Phone: +1-202-552-4723 Fax: +1-202-737-6410 info@climate.org |