'জলবায়ু পরিবর্তন' এবং 'বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি'- এই দুটি শব্দসমষ্টি প্রায়শয়ই পরিপূরক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীগণ সাধারনত প্রথম শব্দসমষ্টিকেই পছন্দ করেন কারণ কেবল তাপমাত্রা পরিবর্তনই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফল ব্যাপক।
মূলতঃ দুটি বায়বীয় পদার্থই বিশেষভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে পৃথিবীর তাপমান বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এই দুটি হল জলীয় বাষ্প আর কার্বন ডাইঅক্সাইড্। মিথেন, নাইট্রাস্অক্সাইড্, ওজোন এবং সালফার হেক্সাফ্লোরাইডও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটাতে সক্ষম। তবে বাতাসে এদের ঘনত্ব অতি স্বল্প, আর তাই এদের প্রভাব সীমিত। শ্রমশিল্পসংক্রান্ত আবর্তনের প্রথম থেকেই মানবিক কর্মফল স্বরূপ বাতাসে বহুসংক্ষক তাপমান বৃদ্ধিকারী গ্যাসের পরিমান বেড়ে গিয়েছে, বিশেষতঃ কার্বন ডাইঅক্সাইড্। বিজ্ঞানীদের মতে এই প্রবনতা বিশ্বতাপমান বৃদ্ধির মানবজনিত কারণ। বিগত দুই শতকে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমান শতকরা ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমান প্রতি নিযুতে ৩৮৪ ভাগ; বৈসাদৃশ্যে শ্রমশিল্পসংক্রান্তের পূর্বে তা ছিল প্রতি নিযুতে ২৭০ ভাগ। বর্তমানে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমান বিগত ১৫০,০০০ বৎসরের মধ্যে সর্বচ্চ। যদি কয়লা, তেল, প্রভৃতি জীবাশ্ন শক্তির ব্যবহার আগামী শতকেও অনুমানিত হারে প্রচলিত থাকে, দ্বাবিংশ শতকের প্রারম্ভে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা প্রতি নিযুতে ৬০০-৭০০র মান স্পর্শ করবে।
অন্যান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী গ্যাস নির্গমের মাত্রাও ক্র্মবর্ধমান। প্রাক শিল্পবৈপ্লবিক যুগের তুলনায় বাতাসে মিথেন গ্যাসের মাত্রা দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু তাপমান বৃদ্ধিকারী গ্যাস যেমন হায়দ্রফ্লুরোকার্বন, পারফ্লুরোকার্বন, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন যান্ত্রিকভাবে প্রস্ত্তত হয়, তাই বায়ুমন্ডলে এদের আবির্ভাব শিল্পবিপ্লবের পরেই।
প্রতিটি যৌগরই তাপমান বৃদ্ধির নির্দিষ্ট ক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট রাসায়নিক অর্ধজীবন আছে। বিক্রিয়ার দ্বারা একটি নতুন যৌগ উৎপন্নের পূর্বে অনুআবহমন্ডলে যে সময় অতিবাহিত করে তাকেই রাসায়নিক অর্ধজীবন বলে। মিথেন, হ্যালোজেন্ যুক্ত যৌগ প্রভৃতি কিছু তাপমানবৃদ্ধিকারী পদার্থ সম ওজনের কার্বন ডাইঅক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশী তাপমানবৃদ্ধি করতে সক্ষম। কিন্তু কেবল বিশাল আয়তনের প্রভাবেই অন্যান্য যৌগর তুলনায় কার্বন ডাইঅক্সাইড্ মনুষ্যঘটিত বায়ুমন্ডলীয় তাপমান বৃদ্ধির প্রধান কারণ। উপরন্তু CO2 এর রাসায়নিক অর্ধজীবন কয়েক শতাব্দী হলেও, অন্যান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী গ্যাসের অর্ধজীবন কয়েক দশক মাত্র। আমরা আজ যে CO2 ত্যাগ করছি, তা বায়ুমণ্ডলে ২০৭৫ বা ২১০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উপস্থিত থাকবে।
জলবায়ু ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল; আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য তাপমান বৃদ্ধিমূলক প্রভাব ছাড়াও আরও অনেক শক্তিই দায়ী। কিন্তু এটা প্রমাণিত যে মনুষ্যজনিত প্রভাবই পৃথিবীর আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য মূলতঃ দায়ী। বহু বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানীর মতে বিংশ শতাব্দিতে যে উষ্ণতা অনুভূত হয়েছে তার জন্য আংশিকরূপে হলেও মানুষই দায়ী। আই.পি.সি.সি মন্তব্য, "সমস্থ প্রমান দ্বারা উপনীত হওয়া যায় বিশ্বের পরিবেশের উপর মনুষ্যজনিত দৃশ্যতপ্রভাব রয়েছে।
এই বিশ্বে প্রানের অস্তিত্বের জন্য পরিবেশ উষ্ণকারী প্রভাব অতি প্রয়জনীয়। পরিবেশ উষ্ণকারী প্রভাব না থাকলে পৃথিবী একটি শীতল গ্রহে পরিনত হত যার গড় পৃষ্ঠ তাপমান হত অতি শীতল তাপমান অপেক্ষাও অনেক নিচে। পরিবেশ উষ্ণকারী প্রভাব পৃথিবীকে আবৃত করে রাখে, যার ফলে ভূপৃষ্ঠের মৃদু তাপমান যা প্রাণশক্তির সহায়ক। পরিবেশ উষ্ণকারী প্রভাব না থাকলে ভূপৃষ্ঠের তাপমান কি হত একটি সরল নমুনার সাহায্যে তা সহজেই আন্দাজ করা যায়। আমরা জানি যে প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ৩৪০ ওয়াট সৌরশক্তি ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়। এর মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ শক্তি প্রতিফলিত হয় এবং অবশিষ্ঠাংশ যার গড় মান ২৪০ ওয়াট ভূপৃষ্ঠের প্রতি বর্গমিটারে শোষিত হয়।
যে সমস্ত পদার্থের তাপমান চরমশূন্যের উপর তারা বিকিরণ বিচ্ছুরণ করে এবং পৃথিবীও এর ব্যতিক্রম নয়। পদার্থবিদদের মতে যে কোন কৃষ্ণকায় বস্তু (পৃথিবীকেও যার মধ্যে গন্য করা যায়) যে পরিমান শক্তি উদ্ভুত করে তা হল ST4 যেখানে 'ত' হচ্ছে ভূপৃষ্ঠের তাপমান আর 'স' হচ্ছে স্টেফান বল্ট্জম্যান সুত্র।
যদি পৃথিবী এবং মহাশূন্যে বিচ্ছুরণগত সাম্য থাকত, অর্থাত পৃথিবীকতৃক কোন অবশিষ্ঠ তাপ গৃহিত কিংবা বর্জিত হত না, তবে স্টেফান বল্ট্জম্যান সুত্রকে আপেক্ষক হিসেবে ব্যবহার করে আমরা ভূপৃষ্ঠের তাপমান নির্ণয় করতে পারি। আমাদের নকশা অনুযায়ী ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমান ২৫৫K বা প্রায় শূন্য ডিগ্রী ফারেনহাইট্। পৃথিবীর বহু অংশ হত শীতলতর। কল্পনা করুন এমন একটি বিশ্ব যা বহুলাংশের প্রাকৃতিক অবস্থা মেরু অঞ্চলের মত বা আরও খারাপ। আজকের পৃথিবীতে যে বিভিন্ন প্রকার প্রাণ বর্তমান এই কাল্পনিক তার বৃহদাংশের পক্ষেই বাসযোগ্য হত না।
সৌভাগ্য বশতঃ আমাদের গ্রহের পৃষ্ঠতাপমান আরও অনেক আরামপ্রদ- ২৮৮K (৫৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট্)। ফলস্বরূপ ভূপৃষ্ঠের অধিকাংশই তাপমানগত অবস্থান থাকে যা প্রাণ বিকাশের সহায়ক। আমাদের নকশায় যা অবর্তমান তা হল তাপমান বৃদ্ধিকারী প্রভাব- গ্যাসসমূহ যা আমাদের পৃথিবীকে প্রায় ৬০ ডিগ্রী ফারেনহাইট্ তাপমাত্রায় গরম রাখে এবং আমাদের পরিচিত জলবায়ু সৃষ্ঠি করে। বাযুমণ্ডলে তাপমান বৃদ্ধিকারী প্রধান দুটি গ্যাস হল কার্বন ডাই অক্সাইড্ আর জলীয় বাষ্প। অন্যান্য তাপমান বৃদ্ধিকারী গ্যাসের মধ্যে রয়েছে মিথেন এবং ক্লোরফ্লুরো কার্বন। এই সমস্থ গ্যাস পৃথিবী নির্গত শক্তির অবলোহিত অংশ শোষন করে। অতঃপর তারা সেই শোষিত শক্তির পুনর্বিকিরণ করে যার একটি অংশ ভূপৃষ্ঠের প্রতি পুনঃচালিত হয়। অতিরিক্ত শক্তির উত্স যা পৃথিবীকে, আমাদের তাপমান বৃদ্ধিকারী প্রভাববিহীন নকশাদ্বারা প্রত্যাশিত, শীতল তাপমান অপেক্ষা উষ্ণ রাখে।
বায়ুদুষণ, স্ট্রাটোস্ফেয়ারে ওজোনের বিলুপ্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যে জটিল পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সকল সমস্যার প্রতিটিরই মূলে রয়েছে মনুষ্যকৃত শিল্প বা কৃষিবিষয়ক কর্মাদি। বহু সংখ্যক উদাহরন রয়েছে যে একটি সমস্যা সমাধান করতে নির্গমনের মাত্রা কমানোর প্রচেষ্টা সমূহ অন্য সব সমস্যাকে প্রভাবিত করতে পারে। স্ট্রাটোস্ফেয়ারে ওজোন স্তর বিলুপ্তির প্রধান কারণ ক্লোরফ্লুরো কার্বন এবং অন্যান্য তাপমান বৃদ্ধিকারী গ্যাস। সুতরাং এই সমস্ত গ্যাসের ব্যবহার কমানোর ব্যবস্থা সমূহ জলবায়ু এবং স্ট্রাটোস্ফেয়ারে ওজোন স্তর রক্ষায় সহায়ক হবে। অনুরূপকারে জীবাশ্ন জ্বালানির পরিবর্তে পূর্ণনবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার করার ব্যবস্হা এবং শক্তির কার্যকারী ব্যবহার জলবায়ু রক্ষায় আর বায়ুর মানোন্নতি ঘটাতে সক্ষম।
কখনো কখনো এই সকল উদ্দেশ্য পরস্পর বিরোধী এবং ব্যবস্থা সমূহ যেকোন একটি উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ব্যবহৃত হয়। বায়ুদুষণ রোধে কয়লা জ্বালানি ব্যবহারকারী শক্তি উত্পাদন কেন্দ্রে যে 'স্ক্রাবার' যন্ত্র ব্যবহার করা হয় তা আরও বেশী শক্তি ব্যয় করে আর তাপমান বৃদ্ধিকারী গ্যাসের নির্গমন বাড়ায়। ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমান বৃদ্ধি এবং ওজোন স্তরের বিলোপ যৌথভাবে আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে যা ভূতল স্তরে ওজোন আর ধোঁয়াশার সৃষ্টি করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেক বায়ুদুষণ কমানোর ব্যবস্থার কার্যকরিতাকে নস্যাৎ করে এগুলি বায়ুদুষণ সমস্যা বৃদ্ধি করে।
পৃথিবীর জলবায়ুর অতি জটিলতার জন্য আমরা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি না যে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড্ বৃদ্ধির ফল কি। আবহাওয়া সম্পকে আরও নির্ভুল ভাবে ভবিষ্যত বাণী করতে হলে আরও গবেষণার এবং বিশ্ব পরিচালন নকশায় (বিশ্ব জলবায়ু নকশায়) আরও পরিশোধন আনা প্রয়োজন।
কিন্তু জলবায়ু নকশা গুলি যন্ত্রগনককৃত কর্মসূচী যা অসংখ্য চালিকা শক্তি যথা বায়ুমণ্ডল, মহাসমুদ্র বা মহাদেশের রসায়নিক ও ভৌত্গুন গণনা করে পৃথিবীর জলবায়ুকে অনুসরণ করে। বিগত কয়েক দশক ব্যাপী যন্ত্রগনক আরও শক্তিশালী আর দ্রুততর হবার দরুন বিশ্ব জলবায়ু নকশায় নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। এতৎ সত্ত্বেও বিশ্ব জলবায়ু নকশাকে আরও সঠিকভাবে কার্যকরী করতে হলে অনেকগুলি দুর্বলতার সুদ্ধিকরণ প্রয়োজন। পৃথিবীর মহাসমুদ্রগুলির আচরনকে বিশ্ব জলবায়ু নকশায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত করার জন্য প্রয়োজন আরও প্রয়াস। উপরন্তু মেঘের ভৌতবিজ্ঞান সম্পর্কে স্বল্পবোধগম্যতা বিশ্ব জলবায়ু নকশার অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি করে।
যন্ত্রগণকের সদাবর্ধমান শক্তির সঙ্গে তাল রেখে গবেষনার অগ্রগতি হওয়ার ফলে আগামী কয়েক বৎসরে নকশার নিরসন আরও উন্নত হবে বলে আশা করা যায়। এর ফলে বিজ্ঞানীগণ উষ্ণকরন আর সমুদ্রতল বৃদ্ধির সীমা আরও সঠিক এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে নির্ধারণ করতে পারবেন, এবং সম্ভবত বৈশ্বিক উষ্ণায়ণের আঞ্চলিক ফলসমূহর বেশী ভালো মূল্যায়ন করতে পারবেন।
Translated into Bengali by Saheli Nath
Climate Science in Six Well-Documented Findings
Debunking the Urban Legends of Climate Change
Reductions in Oceans' Uptake Capacity Could Speed Up Global Warming
Climate Change Becomes Favorite Cartoon Topic
Video Wars on Climate: Of Penguins and Polar Bears
Climate Books Suddenly Popular
Arctic Region Noticeably Changing
Beer & Climate Change; Spirits: No Longer Soaring [German]
Could Climate Change Devastate California?
Global Climate Change and the Dominican Republic
Are We Facing a Point of No Return on Climate Change?
Is the Large Jump in CO2 Levels a Sign that Abrupt Climate Change May Already Be Underway?
Could Acidification of the Oceans Be the Most Irreversible Consequence of Climate Change?
Pentagon Study Suggests Potentially Catastrophic Consequences of Climate Change
Sixty Minutes Documents Rapid Melt in Chile and Antarctica
|
Join the Climate Institute e-news mailing list: |
© 2007 - 2010 Climate Institute All Rights Reserved |
900 17th St. NW, Suite 700, Washington, DC 20006 Phone: +1-202-552-4723 Fax: +1-202-737-6410 info@climate.org |