জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ সম্ভাব্য ক্ষতিকারক ফলসমূহ চরম ঘটনাগুলি যেমন উষ্ণ প্রবাহ, বন্যা, ভীষন ঝড় প্রভৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। যেহেতু চরম আবহাওয়া জনিত ঘটনাগুলি জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করে, সেহেতু এদের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোঝা অত্যন্ত জরুরী।
বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলকে বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে। যদিও আঞ্চলিক জলবায়ু সম্পর্কিত ভবিষ্যত বাণীর নির্ভুলতা পূর্বের চেয়ে উন্নততর হয়েছে, এগুলি এখনো অনিশ্চিত। তবে আমরা এটা জানি যে উষ্ণতর আবহমন্ডলে অধিকতর গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়, চরম উষ্ঞপ্রবাহ, খরা এবং বন্যা হয়।
১৯৭০ সালের পর থেকে উত্তর আট্লান্টিকে উষ্ণমন্ডলীয় ঝড় বেড়ে গিয়েছে (১)। ঝড়ের সক্রিয়তা কেবলমাত্র ঝড়ের সংখ্যা বা নিয়মানুবর্তিতা দিয়ে নির্ধারিত হয় না ঝড়ের তীব্রতা এবং সময়কাল ও বিচার্য (সামগ্রিক ভাবে বলা হয় শক্তির অধপতন নির্ঘন্ট)। ১৯৭০ সালের পর এই নির্ঘন্টে লক্ষনীয় বৃদ্ধি আরম্ভ হয়েছে, যদিও কম নির্দিষ্ট (কিন্তু তবুও পর্যাপ্ত) বৃদ্ধি শুরু হয় ১৯৫০ এর দশকের প্রথম ভাগে।
আমেরিকার জলবায়ু পরিবর্তন বিজ্ঞান কর্মসূচি উষ্ণমন্ডলীয় ঝড়ের প্রকৃত সংখ্যাগুলির বিষয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে যাতে বিংশ শতকে তিনটি নির্দিষ্ট সময়কাল চিন্হিত হয়, যার প্রতিটিতে উষ্ণ মন্ডলীয় ঝড়ের গড় সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরে সেই বর্ধিত মাত্রাতেই থেকে গেছে। ১৯০০ তে শুরু করে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত অতলান্তিক গামলায় গড়ে প্রতি বছর ছটি ঘূর্ণিঝড় হয় (চারটি হারিকেন এবং দুটি উষ্ণমন্ডলীয় ঝড়)। যাই হোক ১৯৩০ থেকে ১৯৪০ এর দশকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত এর মধ্যে এই ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়ে দশ হয়েছে (পাঁচটি হারিকেন ও পাঁচটি উষ্ণমন্ডলীয় ঝড়)। শতাব্দীর শেষ ভাগ পর্যন্ত এই হার অপরিবর্তিত ছিল, তা কমে ১৯৩০ এর দশকের মাত্রায় যায় নি আবার বাড়েও নি। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ এর মধ্যবর্তী দশ বছরে এই ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে পনের- আটটি হারিকেন ও সাতটি উষ্ণমন্ডলীয় ঝড়। অন্য ভাবে বলতে গেলে শতাব্দীর শেষভাগে কেবলমাত্র বাৎসরিক হারিকেনের সংখ্যাই (আটটি) শতাব্দীর শুরুতে প্রতি বছর ঘটা মোট ঘূর্ণিঝড়ের (ছটি) থেকে বেশী (২)।
উষ্ণ মন্ডলীয়ঝড়ের উৎপত্তি অনেকগুলি ভিন্ন প্রকার নৈসর্গিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। প্রথমত আঞ্চলিক সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৬.৫ ডিগ্রী সেন্টি গ্রেড বা ৮০ ডিগ্রী ফারেনহাইট্ হওয়া প্রয়োজন। জলের উষ্ণ উপরিতল থেকে বাষ্পীভবনের ফলে বায়ুমন্ডলে অধিক আর্দ্রতার সৃষ্টি হয়। অধিক আর্দ্রতা বজ্র ঝড়ের সৃষ্টি করে এবং অনেকগুলি বজ্রঝড় মিলিত হয়ে একটি উষ্ণমন্ডলীয় নিম্নচাপ (একটি ঝড় যার অক্ষ ও ঘূর্ণন আছে) তৈরী করে। এই নতুন তৈরী হওয়া অক্ষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বাড়তি তাপ টেনে নেয় এবং পরে তা বায়ুমন্ডলে জলীয় বাষ্প ঘনিভবনের ফলে বৃষ্টিপাতের দ্বারা ত্যাগ করে। একইসঙ্গে সমুদ্রের ত্যাগ করা তাপ থেকে মুক্ত শক্তি জোরাল হাওয়া উৎপন্ন করে। উপরিতলে যত বেশী তাপ উপলব্ধ হয় তত জোরাল হাওয়া হওয়ার সম্ভবনা। যখন হাওয়ার গতি ৩৫ কি,মি, অতিক্রম করে তখন এই ব্যবস্থাকে উষ্ণমন্ডলীয় ঝড় বলা হয় ও এর একটি নাম দেওয়া হয় (৩)।
সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন লক্ষ করার যারপরনাই সহজ উপায় হল প্রতি বছরের উষ্ণ মন্ডলীয় ঝড়ের সংখ্যা বিশ্লেষন করা, কিভাবে ঝড়ের শক্তি পরিবর্তিত হয়েছে অনেক গবেষনা তাও চিন্হিত করেছে। নেচার পত্রিকায় ২০০৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষনাপত্র বিগত ৩০ বৎসরে হওয়া প্রতিটি উষ্ণ মন্ডলীয় সাইক্লোনের সময়কাল এবং সর্বোচ্চ গতিবেগ বিশ্লেষন করে দেখিয়েছে যে আট্লান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরে এই ঝড়ের ধংসকারী ক্ষমতা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে (৪)। ২০০৫ সালে বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত আরেকটি গবেষনাপত্র দেখিয়েছে যে ওই একই সময়ে ৪ বে ৫ শ্রেনীর হ্যারিকেন (সাফির সিম্পসন মাপকাঠিতে দুটি সর্বোচ্চ শক্তিমান শ্রেণী) অনুপাতে বৃদ্ধি পেয়েছে (৫)।
ইহা বিবেচনা করা প্রয়োজন যে হ্যারিকেন উৎপত্তির পিছনে যে দুটি চালিকা শক্তি আছে (সমুদ্রতলের তাপমান এবং আর্দ্রতার মাত্রা) সেগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। যে সব অঞ্চলে উষ্ণ মন্ডলীয় সাইক্লোন আদর্শ ভাবে উদ্ভূত হয় সেখানে সমুদ্রতলের তাপমাত্রার পরিমাপযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে (বিগত ১০০ বৎসরে প্রায় ১.৩ ডিগ্রী)। আরও দেখা গেছে যে সমুদ্র তলের তাপমান বৃদ্ধি ঝড়ের ঘটনাবৃদ্ধির পূর্ববর্তী বৎসরগুলিতে সর্বাপেক্ষা দ্রুত হয়েছে। ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সমুদ্র তলের তাপমান প্রায় .৭ ডিগ্রী বেড়েছে ও অনুরূপ বৃদ্ধি ১৯৯৫ সালেও দেখা যায় এবং এখনো হয়ে চলেছে (২)। সাম্প্রতিক ইতিহাসে বায়ুর আর্দ্র্তাও বেড়েছে; ১৯৭০ সালের পর থেকে প্রায় ৪ শতাংশ(১)। এই দুটি রাশির বৃদ্ধিই এমন পরিস্থিতির উদ্ভব করে যা উষ্ণমন্ডলীয় ঝড় সৃষ্টির সহায়ক।
সম্ভবত ভবিষ্যতে উষ্ণ মন্ডলীয় ঝড়ের তীব্রতা বাড়তেই থাকবে।অনুকরণকারী নমুনা থেকে প্রত্যায়িত হয় যে সমুদ্র তলের তাপমান প্রতি ১ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধির জন্য বায়ুর গতি ১- ৮ % ও বৃষ্টিপাত ৬ থেকে ১৮ % বৃদ্ধি পাবে(৬)। সুতরাং যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তন সমুদ্রের তাপমাত্রা ক্রমশ উষ্ণতর করছে উষ্ণ মন্ডলীয় ঝড়ের তীব্রতাও ক্রমশ বাড়বে।
যদিও উষ্ণমন্ডলীয় ঝড় বৃহত্তম ও সর্বাপেক্ষা ক্ষতিকারক হতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত চরম আবহাওয়ার এটাই একমাত্র উদাহরণ নয়। সর্বোপরি উষ্ণতর আবহাওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য ফল হল অধিক সংখ্যার উষ্ণপ্রবাহ এবং কম সময়ের অতিরিক্ত ঠান্ডা।এর কারণ মনুষ্য জনিত অতিরিক্ত গ্রীনহাউস গ্যাসের উৎপাদনের ফলে উষ্ণতর তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার বৈচিত্রের দরুন চরম অবস্থার উদ্ভব।বিগত অনেক দশকের জলবায়ুগত নথি এই প্রবনতার সপক্ষে প্রমান দেয়। যখন উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার অতি সাম্প্রতিক শীতগুলি গড় অপেক্ষা মৃদু ছিল, বহু দেশে গ্রীষ্মকালে নজিরবিহীন তাপ অনুভূত হয়। ২০০২ সালের মে মাসে ভারতে তাপমাত্রা ১২২ ডিগ্রী ফারেনহাইট (৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস্) হয়েছিল, যার ফলে ৬০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে। ২০০৩ সালে ইউরোপ আবহাওয়া জনিত কারণে সর্বাধিক মৃত্যু প্রত্যক্ষ করে যখন চরম গরমে ৫২০০০ মানুষের মৃত্যু হয় (৮)।
তবে চরম উষ্ণ পর্যায়কালের অর্থ এই নয় যে শীতকালে সে অঞ্চলে তুষারপাতের পরিমান কমে যাবে। গরম বায়ু অধিক জলীয় বাষ্প ধরনে সক্ষম সুতরাং উষ্ণতর বায়ুমন্ডলে অধিক বৃষ্টি হবে, এমনকি শীতকালেও। উষ্ণ প্রবাহের সাথেসাথে এইসব ঘটনার সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে, কিন্তু এদের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে (যেমন ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মধ্য আট্লান্টিকের ভয়াবহ ব্লিজার্ডে দেখা গিয়েছে (৭)।
যদিও যে কোন একটি চরম আবহাওয়া অবস্থার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা যায় না সাম্প্রতিক প্রবণতাগুলি নির্দেশ করে যে ভবিষ্যতে আরও প্রলম্বিত এবং তীব্রতর উষ্ণপ্রবাহ ঘটবে (৮)। ডাব্লিউ,এম,ও, র মতে আগামী শতকে যদিও এই প্রকার প্রচন্ড উষ্ণপ্রবাহ সারা পৃথিবীতে দেখা যাবে, পশ্চিম আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার জায়গাগুলিতে এর প্রবণতা বিশেষভাবে বেশী হবে (৯)।
উষ্ণপ্রবাহের উল্লেখযোগ্য প্রভাবগুলির মধ্যে অন্যতম হল মানবস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব।দীর্ঘকাল উচ্চ তাপমাত্রায় থাকার ফলে টানলাগা, অজ্ঞান হাওয়া, হিটস্ট্রোক প্রভৃতি হতে পারে এবং এগুলি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হযে দাঁড়াতে পারে। এই সব অসুস্থতা নিবারণের চাবিকাঠি হল তাপনিয়ন্ত্রন ব্যবহারের সুযোগ থাকা । কিন্তু ভবিষ্যতে যখন চরম তাপ আরও নিয়মিত হয়ে দাঁড়াবে, যে সব অঞ্চলের মানুষ উচ্চ তাপমানে অভ্যস্থ এবং যে সব অঞ্চলের নয়, তাদের জন্য তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা আরও সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার অঞ্চলগুলির মতো অঞ্চলে যেখানে মানুষ উচ্চ তাপে অভ্যস্থ এবং তাপনিয়ন্ত্রকের ব্যবহার অতি সাধারণ, অতিরিক্ত শক্তির চাহিদা মূল সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং উষ্ণপ্রবাহ আরও তীব্রতর হবে। উত্তর পশ্চিম আমেরিকা এবং ইউরোপের জায়গাগুলিতে, যেখানে মাত্র কয়েকটি জায়গায় তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র আছে কারণ অত্যন্ত উচ্চ তাপমান সেখানে অপ্রচলিত, সেখানে সমস্যা হল তাপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র উপলব্ধ করা ও তর জন্য শক্তি সরবরাহ সুনিশ্চিত করা (১০)।
উষ্ণতর বায়ুমন্ডলের একটি ভৌতিক প্রভাব হল জলীয়বাষ্প ধরণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া। ক্লাসিয়াস ক্লেপেরণ সম্পর্ক অনুসারে, বায়ুমন্ডলে যে পরিমান জলীয় বাষ্প থাকতে পারে তা তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল। একটি উষ্ণতর গ্রহ সম্ভবত আরও ভিজে গ্রহ কারণ উষ্ণতর তাপমান বাষ্পীভবনের হার বাড়িয়ে দেয় (১১)।
পৃথিবীর নিচু জায়গাগুলির পক্ষে বন্যার হার কিম্বা তীব্রতা বৃদ্ধি চরম বিপর্যয় ছাড়া কিছু নয়।এশিয়ার দেশগুলি বিশেষ ভাবে ঝুঁকিগ্রস্ত, কারণ নিম্নভূমি এলাকাগুলি (যেমন দ্বীপ বা ব- দ্বীপ গুলি) ঘন বসতিপূর্ণ। কেবলমাত্র বাংলাদেশেই ১৭০ লক্ষ মানুষ এমন জায়গায় থাকেন যার উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে ৩ ফুটেরও (১ মিটারের) কম এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ গঙ্গা বা ব্রহ্মপুত্রর তীরে সমভূমিতে সমভূমিতে বাস করেন (১)। আরেকটি সমস্যা হল বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলির তাদের নাগরিকদের কম ঝুঁকি প্রবন এলাকায় স্থানান্তরিত করার বা প্রতিরোধক বাঁধ তৈরী করার আর্থিক সামর্থ নেই (১২)। বন্যার প্রকট প্রভাব লক্ষ লক্ষ মানুষকে স্থানচ্যুত করা হলেও পরিশ্রুত জল সরবরাহ বজায় রক্ষার সমস্যাও বর্তমান থাকে। বন্যার জল পানীয় জল দুষণ করতে পারে, এবং সমুদ্র তল বৃদ্ধি ব্যক্তিগত কুয়াগুলিকে দুষিত করতে পারে যার ফল চরম বিপর্যয় (১৩)।
বড় বন্যার সম্ভাবনা কেবলমাত্র এশিয়ার দেশগুলিতেই সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নতির সংস্থা (যা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা) সম্প্রতি দশটি শহরকে সর্বাপেক্ষা বন্যাপ্রবণ বলে ঘোষনা করেছেন।দশটির মধ্যে ছটি শহর হল এশিয়ায়:মুম্বাই, সাংহাই, হোচিমিন সিটি, কলকাতা, ওসাকা এবং গুয়ান্ঝাউ। অন্য চারটি অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে: নিউ ইওর্ক সিটি,আলেকজান্দ্রিয়া, মিয়ামি ও নিউ অর্লিন্স। সব শহরগুলিই তটভূমিতে অবস্থিত, নিচু এবং ঘন বসতিপ্রবন (১২)।
যেখানে উন্নতিশীল দেশগুলিতে বন্যাকে দরিদ্র জনগনের পক্ষে গভীর উদ্বেগের বিষয় রূপে বিবেচনা করা হয়, ধনী জায়গাগুলি তাদের নিজস্ব সমস্যার মুখোমুখি হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় আমেরিকায় জল সম্মুখস্থ ভূসম্পত্তি অত্যন্ত আকাঙ্খিত। বিভাজক দ্বীপের মতো জলাভূমি এবং তটভূমি বন্যা ও ঝড়ের হাত থেকে মূল ভুখন্ডকে রক্ষা করে। এই সব অঞ্চলে আরও ইমারত গড়ে ওঠার সাথে সাথে এই প্রাকৃতিক রোধক অবলুপ্ত হয়ে যায় আর বাড়ি ও ব্যবসার জায়গাগুলি ঝুঁকিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যতদিন মানুষ এইসব ঝুঁকিপ্রবন এলাকায় নির্মাণকাজ চালিয়ে যাবে ততদিন বন্যা একটি বড় সমস্যা হয়ে থাকবে (১২)।
যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বিশ্বের গড় বৃষ্টিপাত বাড়বে বলেই আন্দাজ করা হয় পৃথিবীর সব জায়গাতেই অধিক বৃষ্টিপাত অনুভূত হবে না। বাষ্পীভবন এবং বৃষ্টিপাত ভিন্ন স্থানে হয়, বিশ্বের উষ্ণীকরনের ফলে যখন ভিজা অঞ্চলে আরও বেশী বৃষ্টিপাত অনুভূত হবে, সুষ্কতর স্থানগুলিতে জলাভাব আরও প্রকট হবে কারণ এই সব অঞ্চলে বাষ্পী ভবন আরও ত্বরান্বিত হবে (১)। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় বিগত কয়েক দশকে আরও সুষ্কতর হয়েছে, যার ফলে এর মরুভবন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে, ও ইতিমধ্যেই টান পড়া জল সরবরাহ আরও চাপে পড়েছে। ডাব্লিউ,এম,ও,র মতে, পশ্চিম আমেরিকার রাজ্যগুলি ও মেক্সিকো, ভুমধ্যসাগারীয় গামলা, উত্তর চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ সেই অঞ্চলে পড়ে যেখানে ভবিষ্যতে কঠোর খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হাওয়ার সম্ভবনা আছে (৯)।
যখন চরম আবহাওয়া অবস্থার ওপর বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষনা চলছে, এই সব অবস্থায় মানবিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিবেচনা করা জরুরী। এই সব ঘটনার হার এবং তীব্রতার সম্ভাব্য বৃদ্ধি আরেকটি জোরাল কারণ যার জন্য আমাদের বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Image from Pew Center on Global Climate Change
Translated into Bengali by Saheli Nath
REFERENCES
1. Intergovernmental Panel on Climate Change Fourth Assessment Report: Climate Change 2007. Accessed 2 February 19 January 2010.
2. Holland, Greg J. and Peter J. Webster. Heightened Tropical Cyclone Activity in the North Atlantic: Natural Variability or Climate Trend? University Corporation for Atmospheric Research. 29 July 2007. Accessed 2 February 2010.
3. Hurricanes and Global Warming FAQs. The Pew Center on Global Climate Change. 2010.
4. Emanuel, K. 2005. Increasing destructiveness of tropical cyclones over the past 30 years. Nature. 436:686-688.
5. Webster, P.J., G.J. Holland, J.A. Curry, and H.R. Chang. Changes in tropical cyclone number, duration, and intensity in a warming environment. Science. 309: 1844-1846.
6. A Report by the U.S. Climate Change Science Program and the Subcommittee on Global Change Research. 2008. Department of Commerce, NOAA’s National Climatic Data Center, Washington D.C., 164 pp.
7. Walsh, Bryan. Another Blizzard- What Happened to Global Warming? Time Magazine. 10 February 2010.
8. Eilperin, Juliet. More Frequent Heat Waves Linked to Global Warming. The Washington Post. 4 August 2006.
9. UN World Meteorological Organization. Heat Waves and Extreme Drought Will Increase with Climate Change. 19 February 2009. Accessed 2 February 2010.
10. Ebi, Kristie and Gerald Meehl. Heat Waves and Global Climate Change. Pew Center on Global Climate Change. December 2007. PDF
11. The Clausius-Clapeyron Equation. The Massachusetts Institute of Technology. Accessed 17 February 2010.
12. Vigran, Anna. With Climate Change Comes Floods. National Public Radio. 14 January 2008.
13. World Health Organization. Flood Fury: A Recurring Hazard. 2007. Accessed 2 February 2010. PDF
Dr. Stephen Leatherman at the Forefront of Hurricane Research (September 2008)
Hurricanes and Galveston: 1900, 2005 and 2008 (September 2008)
Hurricane Dean: Mexico Shows How to Do It Right (September 2007)
|
Join the Climate Institute e-news mailing list: |
© 2007 - 2010 Climate Institute All Rights Reserved |
900 17th St. NW, Suite 700, Washington, DC 20006 Phone: +1-202-552-4723 Fax: +1-202-737-6410 info@climate.org |